সিটিসেলকে দুই মাসে ৪৭৭ কোটি টাকা পরিশোধের আদেশ

Credit:- BBC

দেশের প্রথম মুঠোফোন অপারেটর প্যাসিফিক বাংলাদেশ টেলিকমের (সিটিসেল) কাছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) পাওনা ৪৭৭ কোটি টাকা দুই কিস্তিতে পরিশোধ করতে বলেছেন আপিল বিভাগ। এর মধ্যে আগামী এক মাসের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশ ও পরের কিস্তিতে বাকি এক-তৃতীয়াংশ টাকা পরিশোধ করতে হবে। অর্থাৎ কার্যক্রম টিকিয়ে রাখতে হলে আগামী এক মাসের মধ্যে ৩১৮ কোটি টাকা পরিশোধ করতে হবে সিটিসেলকে।

গতকাল সোমবার টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসির করা এক আবেদনের নিষ্পত্তি করে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের আপিল বিভাগের বেঞ্চ এই আদেশ দেয়।

গত ২২ আগস্ট সিটিসেলের এক আবেদনে ওই সময় পর্যন্ত সিটিসেলকে কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দিতে বলেছিল হাইকোর্ট। বিটিআরসি হাইকোর্টের ওই নির্দেশনার বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে যাওয়ায় তার নিষ্পত্তি করে দিয়ে সর্বোচ্চ আদালতের এই নতুন নির্দেশনা এলো। এ বিষয়ে জবাব দিতে সিটিসেলকে ৩০ দিনের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। তবে সিটিসেলের গ্রাহকদের বিকল্প সেবা নেওয়ার জন্য গত ৩১ জুলাই একটি গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বিটিআরসি। সেই বিজ্ঞপ্তিতে গ্রাহকদের ২৩ আগস্টের মধ্যে বিকল্প সেবা নেওয়ার জন্য সময় বেঁধে দেওয়া হয়।

আদালতে বিটিআরসির পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী শেখ ফজলে নূর তাপস ও খন্দকার রেজা-ই-রাকিব। সিটিসেলের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী রোকনউদ্দিন মাহমুদ আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

সিটিসেলের মোট ৪৭৭ কোটি টাকা বকেয়ার মধ্যে টুজি লাইসেন্সের তরঙ্গ বরাদ্দ ও নবায়ন ফি বাবদ পাওনার পরিমাণ ২২৯ কোটি টাকা। এ ছাড়া রাজস্ব ভাগাভাগি বাবদ ২৭ কোটি ৪৪ লাখ টাকা, বার্ষিক তরঙ্গ ফি বাবদ ২৭ কোটি ১৪ লাখ টাকা, সামাজিক সুরক্ষা তহবিলের ৮ কোটি ৯২ লাখ লাখ, বার্ষিক লাইসেন্স ফি বাবদ ১০ কোটি টাকা, মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বাবদ ৩৯ কোটি ৯২ লাখ টাকা ও বিলম্ব ফি বাবদ ১৩৫ কোটি ৭ লাখ টাকা বকেয়া রয়েছে।

রেজা-ই-রাকিব সাংবাদিকদের বলেন, ‘হাইকোর্টের আদেশ সংশোধন করে কয়েকটি নির্দেশনা দিয়ে আপিল বিভাগ আবেদনটি নিষ্পত্তি করে দিয়েছে। ১৭ আগস্টের আগ পর্যন্ত সিটিসেলের কাছে বিটিআরসির পাওনা রয়েছে ৪৭৭ কোটি টাকা। এর দুই-তৃতীয়াংশ এখন থেকে এক মাসের মধ্যে, আর এক-তৃতীয়াংশ পরবর্তী এক মাসে পরিশোধ করতে হবে। এক প্রশ্নের জবাবে রেজা-ই-রাকিব বলেন, এই টাকা পরিশোধ করলে সিটিসেল কার্যক্রম চালাতে পারবে। তা না হলে বিটিআরসিকে যে কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার অনুমতি দিয়েছে আপিল বিভাগ।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY