ইবোলা ভাইরাসের টিকা পরীক্ষায় শতভাগ সাফল্য

CrediT:-BBC

ডব্লিউএইচও-র (World Health Organisation-WHO) এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গিনিতে পরীক্ষামূলক ভাবে ইবোলা ভাইরাসের অত্যন্ত কার্যকর টিকা দেওয়া হয়েছে এবং শতভাগ সাফল্য পাওয়া গেছে। ২০১৩ সালে পশ্চিম আফ্রিকার যে তিনটি দেশে ইবোলা ভয়াবহ আকারে ছড়িয়ে পড়েছিল গিনি তার একটি।

ডব্লিউএইচও-র কর্মকর্তা ম্যারি-পলি কেনি বলেন ভবিষ্যতে ইবোলার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এই পরীক্ষার ফলাফল সাহায্য করবে ।

২০১৮ সাল নাগাদ ইবোলা ভাইরাসের টিকা সাধারণ ব্যবহারের জন্য পাওয়া যাবে বলে আশা প্রকাশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা-ডব্লিউএইচও।

যুক্তরাষ্ট্রের বৃহৎ ওষুধ প্রস্তুতকারক কোম্পানি ‘মার্ক অ্যান্ড কোম্পানি’ ইবোলা ভাইরাস প্রতিরোধে তিন লাখ ডোজ টিকা উৎপাদন করেছে। গ্লোবাল ভ্যাক্সিন অ্যালিয়েন্স ৫০ লাখ মার্কিন ডলারে ওই টিকা কিনে নিয়েছে।

প্রাথমিকভাবে গিনির প্রায় ৬ হাজার মানুষকে ওই টিকা দেওয়া হয়। ১০ দিন পর তাদের কারো দেহে ইবোলা ভাইরাস পাওয়া যায়নি। গবেষণায় আরো প্রায় ৬ হাজার লোক অংশ নেয়, যাদের টিকা দেওয়া হয়নি। তাদের মধ্যে ২৩ জন পরে ইবোলা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়।

যাদের টিকা দেওয়া হয়েছিল তাদের মধ্যে মাত্র একজনের শরীরে গুরুতর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেয়া। তার শরীরের তাপমাত্র অনেক বেড়ে যায়। তবে তিনি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে গেছেন। যদিও শিশুদের উপর এই টিকার প্রভাব কী হবে তা জানা যায়নি। কারণ গবেষণায় কোনো শিশু অংশ নেয়নি।

১৯৭৬ সালে প্রথম পশ্চিম আফ্রিকায় ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব হয়। সেবার প্রায় ১১ হাজার মানুষ ইবোলায় আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। ২০১৩ সালে গিনিতে নতুন করে ইবোলার প্রাদুর্ভাব হয়, যা লাইবেরিয়া ও সিয়েরা লিওনে ব্যাপকভাবে ছড়ি পড়ে এবং এক হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়।

যুক্তরাজ্য ভিত্তিক মেডিকেল গবেষণা সংস্থা দ্য ওয়েলকাম ট্রাস্ট এই গবেষণাকে ‘চমকপ্রদ’ বলে উল্লেখ করেছে। ডব্লিউএইচও-র নেতৃত্বে গিনির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংস্থা টিকা পরীক্ষার কাজ করেছে।

NO COMMENTS