নাপালাম বোমা হামলার পোস্ট মুছে বিতর্কে ফেসবুক

Credit:- BBC News

ফেসবুক জানিয়েছে, ১৯৭২ সালে ভিয়েতনামে মার্কিন আগ্রাসনের সময় নাপাম বোমা হামলার সময় বিবস্ত্র শিশুর পালিয়ে যাওয়ার ছবিকে স্বস্থানে সংরক্ষণে রাজি হয়েছে কর্তৃপক্ষ। এর মাধ্যমে ফেসবুক তাদের ‘অশ্লীল আখ্যা দেওয়া অবস্থান থেকে ইউটার্ন করলো বলে নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী এরনা সোলবার্গ মন্তব্য করেছেন ।

এর আগে এই ছবিটিকে ‘অশ্লীল’আখ্যা দিয়ে ফেসবুক থেকে মুছে দেয় বলে অভিযোগ করেন নরওয়ের এক লেখক। ঘটনাটি সংবাদমাধ্যম তুলে ধরলে বিশ্বব্যাপী এর নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া হয়।

এ বিষয়ে নরওয়ের বহুল প্রচারিত এক সংবাদপত্রের সম্পাদক ফেসবুক নির্বাহী জুকার বার্গের কাছে একটি খোলা চিঠি লেখেন। সেই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ফেসবুক কর্তৃপক্ষ ক্ষমতার অপব্যবহার করে ছবিটি সরিয়ে ফেলেছে।

যুদ্ধের সময় নাপলাম হামলা থেকে বাঁচতে পালাচ্ছিল নয় বছরের একটি মেয়েশিশু। বলা হয়, পরনের কাপড়ে আগুন ধরে যাওয়ায় প্রাণ বাঁচাতে কাপড় ফেলে দিয়ে খালি গায়ে দৌড়াচ্ছিল সে। সেই ছবি ফেসবুকে দিয়েছিলেন লেখক টম এগল্যান্ড। নগ্নতার অভিযোগ তুলে সেই ছবি সরিয়ে দেয় ফেসবুক কর্তৃপক্ষ। এই বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করে দেশটির দৈনিক আফটেনপোস্টেন। ওই প্রতিবেদনের সঙ্গে সেই ছবিটি যুক্ত করা হয়, যা ফেসবুকেও দেওয়া হয়। ফেসবুক কর্তৃপক্ষ সেই পত্রিকাকে ছবিটি সরিয়ে নিতে চাপ দেয়। শুধু তাই নয়, ওই পত্রিকার প্রতিবেদকের অ্যাকাউন্টও স্থগিত করে।

নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী এরনা সোলবার্গ বলেন, ‘সামাজিক সাইট ব্যবহার করে সামাজিক সাইটের রাজনৈতিক অবস্থানকে যে পরিবর্তন করা যায়, সেটা আবারও প্রমাণিত হলো।’

এরপর ফেসবুক কর্তৃপক্ষ ছবিটি ফেসবুক ওয়ালে ফিরিয়ে দেওয়ার কথা জানিয়ে এক বিবৃতি দেয়। সে বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ফেসবুক কমিউনিটির বক্তব্য’ ও ‘ছবিটির বিশ্বব্যাপী গুরুত্বের’ প্রতি সম্মান দেখিয়ে ছবিটি ফেসবুকে ফিরিয়ে দেওয়া হবে।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এটি আগের স্থানে সংরক্ষণে কিছুটা সময় লাগতে পারে। তবে যে কোনও সময় ছবিটা আগের স্থানে ফের দেখা যাবে।’

নরওয়ের সেই লেখক টম ইগল্যান্ড এক টুইট বার্তায় বলেন, ‘আমি এখন খুশি।’ তার ফেসবুকে ওয়ালে ১৯৭২ সালে ভিয়েতনামে মার্কিন আগ্রাসনের সময় নাপাম বোমা হামলার কারণে পলায়নরত এক বিবস্ত্র কন্যাশিশুর ছবি পোস্ট করেছিলেন। তার সেই অ্যাকাউন্টটি স্থগিত রাখে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ।

টম ইগল্যান্ড বলেন, ‘এর মানে এই নয় যে, কোনও জটিল ইস্যুর ক্ষেত্রে ফেসবুকের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে ফেসবুক ও নরওয়ের সংবাদমাধ্যম জড়িত ছিল। যাক, আজ রাতে তারপরও আমি খুশি!’

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY