সৌরজগতের নিকটবর্তী একটি নক্ষত্রকে ঘিরে নতুন ৭টি গ্রহের সন্ধান পেয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। নাসার স্পিটজার স্পেস টেলিস্কোপ ও বেশ কয়েকটি ভূমি-ভিত্তিক পর্যালোচক সংস্থা এসব গ্রহের সন্ধান পেয়েছে। এ সাতটি গ্রহ পৃথিবী থেকে ৪০ আলোকবর্ষ দূরে একটি নক্ষত্রকে ঘিরে আবর্তন করছে।

ওয়াশিংটনে নাসার সদরদপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেয়া হয়। গত বুধবার জার্নাল ন‌্যাচারে প্রকাশ হওয়া এ আবিষ্কারকে বিরল হিসেবেই দেখছেন বিজ্ঞানীরা।

২০১৬ সালের মে মাসে চিলি থেকে ট্র্যানজিটিং প্ল্যানেটস অ্যান্ড প্ল্যানেটেসিম্যালস স্মল টেলিস্কোপ বা ট্র্যাপিস্ট-এর মাধ্যমে প্রথমে ৩ গ্রহের সন্ধান মেলে। এরপর পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে থাকা বিভিন্ন মহাকাশ দূরবিক্ষণ কেন্দ্র থেকে টেলিস্কোপের মাধ্যমে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হয়। শেষমেশ ইউরোপিয়ান সাদার্ন অবজারভেটোরি কেন্দ্রের বৃহদাকার স্পেস টেলিস্কোপ স্পিৎজা তিনটি নয় পৃথিবীর আকারের ৭ গ্রহের কথা নিশ্চিত করে।

জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা বলছেন, গ্রহগুলো সন্ধান বিরল। গ্রহগুলো পৃথিবীর আকৃতির এবং সেগুলোর পৃষ্ঠে পানি থাকতে পারে, এর আবহাওয়া হতে পারে প্রাণের জন‌্য উপযুক্ত। সাতটি গ্রহের পৃষ্ঠতে তরল পানির স্তর থাকতে পারে। তবে সাতটির মধ্যে তিনটি গ্রহ প্রাণের বা বসবাসের উপযুক্ত হতে পারে।

জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, ট্র্যাপিস্ট-১ নক্ষত্রের ই, এফ ও জি নামের তিনটি গ্রহ বাসযোগ‌্য এবং সেগুলোতে মহাসাগরও থাকতে পারে। টিআরএপিপিআইএসটি-১ নক্ষত্রটির বি, সি, ডি, ই, এফ, জি, এইচ, নামের গ্রহগুলোর মধ্যে ই, এফ ও জি নামের তিনটি গ্রহ শিলা দ্বারা গঠিত ও শক্ত হওয়ার ফলে বাসযোগ্য হওয়ার পাশাপাশি সেখানে মহাসাগর থাকার সম্ভাবনা দেখছেন তারা। এখানে বাসযোগ্য বলতে কোনও নক্ষত্রের চারপাশে ঘূর্ণায়মান গ্রহদের অবস্থানের এমন একটি এলাকা বোঝানো হয়।

কেমব্রিজ বিশ্ববিদ‌্যালয়ের জ‌্যোতির্বিজ্ঞানী আমাউরি ট্রিউড বলেন, আমি মনে করি এর আগে কখনও আমাদের এমন কোনো গ্রহ আবিষ্কারের ছিল না যেখানে প্রাণ আছে কি না তা খুঁজে দেখার মতো। এখানে যদি কোনো প্রাণের অস্তিত্ব থাকে এবং গ‌্যাস নিঃসরণ করে, যেমনটি আমরা পৃথিবীতে করি, তাহলে আমরা তা জানাবো। আর কোথাও প্রাণের অস্তিত্ব আছে কি না তা খুঁজে বের করার ক্ষেত্রে আমরা অত‌্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ এগিয়েছি।

যদিও বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, এখন যদি ওই গ্রহগুলিতে প্রাণ নাও থাকে, ভবিষ্যতে তার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। ট্রাপিস্ট ১-এর বয়স অন্তত ৫০০ মিলিয়ন বছর, এখনও অন্তত ১০ ট্রিলিয়ন বছর বাঁচবে নক্ষত্রটি। আমাদের সূর্য সে তুলনায় বুড়ো থুত্থুড়ে, ১০ বিলিয়ন বছরের জীবন অর্ধেকটা পার করে দিয়েছে সে। অর্থাৎ আর কয়েক বিলিয়ন বছর পর সূর্যের জ্বালানি যখন ফুরিয়ে যাবে, ধ্বংস হয়ে যাবে এই সৌরমণ্ডল, ট্রাপিস্ট ১ তখনও থাকবে নেহাত এক শিশু নক্ষত্রের চেহারায়। এত ধীরে ধীরে এর হাইড্রোজেন পুড়ছে, যার ফলে এর জীবন অনেক দীর্ঘ।

 

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY