বিশ্বমানের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘর নির্মাণের উদ্যোগ

Credit :- ICT News

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘর মিলনায়তনে শনিবার ‘বিশ্বমানের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘর নির্মাণের উদ্যোগ ও আমাদের প্রত্যাশা’ শীর্ষক সেমিনারে বিশ্বমানের জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরের একটি নক্সা প্রদর্শন করা হয়। প্রদর্শিত জাদুঘরের জমির পরিমাণ ২০ একরের বেশি। কিন্তু জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরের বর্তমান অবস্থানের জমির পরিমাণ ৫ একরেরও কম।

এজন্য স্থাপত্য অধিদফতরকে সঠিকভাবে স্থাপত্য নক্সা প্রণয়নের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। যেখানে-ভৌত বিজ্ঞান গ্যালারি (১-৩), জীববিজ্ঞান গ্যালারি (১-৩), প্রযুক্তি (১-৩), মজার বিজ্ঞান, মিশু, মহাকাশ, কৃষি, বিদ্যুত, হেরিটেজ, মেরিটাইম, বাহন বিজ্ঞানের ইতিহাস (১, ২), গণিত, পরিসংখ্যান, মানবদেহ ইত্যাদিসহ মোট ২৬টি গ্যালারি অন্তর্ভুক্ত করতে বলা হয়েছে। এছাড়া মাটির নিচে যানবাহন পার্কিংয়ের জন্য ৩টি বেজমেন্ট ভবনের গ্রাউন্ড ফ্লোরে সায়েন্স পার্কের ব্যবহারের পাশাপাশি অন্যান্য সুবিধা বিবেচনা করতে বলা হয়েছে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান বলেছেন, বর্তমান সরকার দেশে বিজ্ঞানের উন্নয়ন ও বিজ্ঞানমনস্ক জাতি গঠনে আন্তরিকভাবে কাজ করছে। বিশ্বমানের সর্বাধুনিক এবং দৃষ্টিনন্দন জাদুঘর নির্মাণ করে দেশে বিজ্ঞানমনস্কতা বৃদ্ধি করা হবে।

সেমিনারে জানানো হয়, ২০১৬ জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘর প্রতিষ্ঠার ৫০ বছর পূর্তি হয়েছে। ১৯৬৫ সালের ২৬ এপ্রিল তৎকালীন সরকার এক নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘর আত্নপ্রকাশ করে। প্রতিষ্ঠানটি অনানুষ্ঠানিক বিজ্ঞান শিক্ষা কেন্দ্র হিসেবে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির সুবর্ণ জয়ন্তী পালনের জন্য দেশের সকল জেলা সদরে বিজ্ঞান প্রদর্শনী, বিজ্ঞান প্রদর্শনী, বিজ্ঞান বিষয়ক কুইজ প্রতিযোগিতা, সেমিনার ইত্যাদি আয়োজন করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় পর্যায়ে ২০১৭ সালের ২০ এপ্রিল থেকে ২০১৭ সালের ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত নানা ধরনের কর্মসূচী পালন করা হবে।

সেমিনারে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোকাম্মেল এইচ ভূঁইয়া, বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের কীপার (অব) জাহাঙ্গীর হোসেন ও বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের কীপার ড. শিখা নূর মুনসী। অনুষ্ঠানে তারা সকলেই বিশ্বমানের এই বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরের সম্ভাব্য নক্সায় আরও কিছু বিষয়ের অন্তর্ভুক্তকরণের প্রস্তাব জানান।

এছাড়া সেমিনারে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, ছাত্রছাত্রী, বিভিন্ন পর্যায়ে কর্মকর্তা মিডিয়াকর্মী, তরুণ উদ্ভাবক, বিজ্ঞানসেবী সংগঠনের প্রতিনিধিসহ সর্বস্তরের জনগণ অংশগ্রহণ করেন। এ সময় তারাও নির্ধারিত একটি ফরমে বিশ্বমানের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরের নক্সায় আরও কি কি অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে সে বিষয়ে নিজেদের মতামত প্রদান করেন।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY