ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে চালু হয়েছে অ্যাপভিত্তিক সাইকেল সেবা ‘জোবাইক’।

জোবাইক অ্যাপের মাধ্যমে সাইকেলের সঙ্গে থাকা কিউআর কোড স্ক্যান করে সাইকেলটি ব্যবহার করা যায় বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে জোবাইকের পক্ষ থেকে।

বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিক্ষক কেন্দ্রে এক অনুষ্ঠানে সেবাটির উদ্বোধন করেন ডাকসুর সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। সভাপতিত্ব করেন ডাকসুর ছাত্র পরিবহন সম্পাদক শামস-ঈ-নোমান।

উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামান বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সুন্দর, নিয়ন্ত্রিত ও সুব্যবস্থাপনার মাধ্যমে জোবাইক পরিচালিত হবে। পরিবেশবান্ধব এই ব্যবস্থা যানজট নিরসনে ভূমিকা রাখবে।’

জোবাইকের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিয়ম শৃঙ্খলার মধ্যে আসবে এবং প্রযুক্তিকে সময় অনুযায়ী ব্যবহারের অভ্যাস তৈরি হবে হবে বলে মনে করেন অধ্যাপক আখতারুজ্জামান।

প্রধান অতিথি শিক্ষা উপমন্ত্রী নওফেল বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পরিবহন সুবিধার জন্য জোবাইক সার্ভিস চালু হয়েছে। জোবাইককে পরিবেশবান্ধব সেবা উল্লেখ করে উপমন্ত্রী বলেন, এটি অত্যন্ত প্রশংসনীয় উদ্যোগ।জোবাইক একটি পরিবেশবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে ছাত্রাবস্থায়ই শিক্ষার্থীরা পরিবেশ সম্পর্কে সচেতন হতে পারবে।

সেবাটি গ্রহণ করার জন্য শিক্ষার্থীদের বৈধ পরিচয়পত্র (আইডি কার্ড) দেখিয়ে ক্যাম্পাসে জোবাইকের নির্দিষ্ট বুথ থেকে নিবন্ধন করতে হয়। নিবন্ধনের সময় অ্যাকাউন্টে সর্বনিম্ন ১০০ টাকা রিফিল করতে হবে।

জোবাইকের প্রধান নির্বাহী মেহেদি রেজা বলেন শিক্ষার্থীদের ইতিবাচক সাড়া পেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আমরা যত দ্রুত সম্ভব সাইকেলের সংখ্যা বাড়িয়ে দেব।

নভেম্বরের মধ্যেই আরও ৫০টি এবং ডিসেম্বরের মধ্যে মোট ৩০০টি সাইকেল দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানান জোবাইকের প্রতিষ্ঠাতা।

মেহেদি বলেন, অ্যাপের মাধ্যমে স্ক্যান করে সাইকেলের লক খোলার সঙ্গে শুরু হবে সময় গণনা। গন্তব্যে পৌঁছে ব্যবহারকারী যখন সাইকেলটি স্ট্যান্ড করে পুনরায় লক করবেন, তখন শেষ হবে তার রাইড।
কর্মকর্তারা জানান, সাইকেল ব্যবহারের জন্য প্রথম ৫ মিনিটে গুনতে হবে ২ টাকা ৫০ পয়সা এবং পরবর্তী মিনিট থেকে প্রতি মিনিটে ৪০ পয়সা।

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের প্রতিটি আবাসিক হল, কার্জন হল, কলাভবন, ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ, সামাজিক বিজ্ঞান ভবন, টিএসসি, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে জোবাইকের স্ট্যান্ড রাখা হয়েছে।