বিশ্বজুড়ে ৫জি নেটওয়ার্ক প্রযুক্তি স্থাপনে তোড়জোড় চলছে। এ খাতের অগ্রগামী চীনা প্রযুক্তিপণ্য নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ে। তবে তাদের নেটওয়ার্ক প্রযুক্তি বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রসহ অনেক দেশেই উদ্বেগ রয়েছে।

ভারতে নিযুক্ত হুয়াওয়ের প্রধান নির্বাহী জে চেন হুয়াওয়ের টেলিকম যন্ত্রাংশ সম্পর্কে নিশ্চয়তা দিয়ে বলেছেন, সব নেটওয়ার্কের চেয়ে নিরাপদ হবে ৫-জি। এ নেটওয়ার্কের অবকাঠামো ভাঙা কোয়ান্টাম কম্পিউটার ছাড়া সম্ভব নয়।

জে চেন দাবি করেছেন, গত তিন দশকে হুয়াওয়ের নিরাপত্তা প্রটোকল ভাঙার কোনো প্রমাণ নেই। দ্য ইকোনমিস্টের ইন্ডিয়া সামিটে জে চেন গতকাল বৃহস্পতিবার এ দাবি করেন। তিনি বলেন, তাঁরাই একমাত্র প্রতিষ্ঠান হিসেবে ব্যাকডোর সুবিধা দিতে রাজি। পেছন থেকে কেউ তথ্য হাতিয়ে নিচ্ছে কি না, তা পরীক্ষা করার পূর্ণ নিশ্চয়তা দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।

ফাইভ-জি প্রযুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে পড়েছে চীনা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ে। গত সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সন্তুষ্ট করতে ফাইভ-জি প্রযুক্তি নিয়ে দুর্দান্ত এক অফার দেন হুয়াওয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেন ঝেংফেই। তিনি বলেন, ফাইভ-জি প্রযুক্তির ক্রেতারা প্রয়োজনে হুয়াওয়ের সফটওয়্যার কোড বদলে ফেলতে পারবেন। হুয়াওয়ের কোনো সংশ্লিষ্টতা ছাড়াই এ প্রযুক্তিতে কোনো ত্রুটি বা ব্যাকডোর আছে কি না, তা পরীক্ষা করতে পারবেন।

হুয়াওয়ে বরাবরই চীন সরকারের পক্ষ হয়ে কোনো দেশের ওপর নজরদারি বা গোয়েন্দাগিরি করার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। তাদের দাবি, হুয়াওয়ে মূলত প্রাইভেট এন্টারপ্রাইজ, প্রতিষ্ঠানের কর্মীরাই এটার মালিক।

বর্তমানে ইউরোপে হুয়াওয়ের বিকল্প হিসেবে নকিয়া ও এরিকসনকে বেছে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এ ছাড়া দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিষ্ঠান স্যামসাং ও চীনের জেডটিই ফাইভ-জি প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে।
যুক্তরাষ্ট্রে সিসকো, ডেল ইএমসি, হিউলেট প্যাকার্ডের মতো প্রতিষ্ঠান ফাইভ-জি প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করলেও তাদের পক্ষে অবকাঠামোগত বা যন্ত্রপাতি উন্নয়ন করা সম্ভব হয়নি।